আসসালামু আলাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালোই আছেন। আজকে আপনাদের জন্য যে পোষ্টটি করতে চাচ্ছি তা একটি সচেতনতামূলক পোষ্ট। আশা করি এতে আপনাদের কিছুটা হলেও উপকার হবে। তো চলুন শুরু করা যাক,
.
অামাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে ইন্টারনেট ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখন ইন্টারনেট ছাড়া আমাদের এক মূহুর্তও চলে না কারন অনেকেই পেশাদারিত্বের খাতিরে, ঘরের কাজে, বিনোদনের জন্য ও বিভিন্নভাবে ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। ঘরে বা অফিসে এই ইন্টারনেটের সংযোগ গুলো দেয়া হয় Router এর মাধ্যমে। আর এর ওয়্যারলেস সুবিধা পাওয়া যায় Wifi ব্যবহারের মাধ্যমে।

ওয়্যারলেস এই প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ঘর বা অফিস রুমের যেকোন স্থান থেকেই ইন্টারনেট চালানো যায়। এটি ওয়াইফাই ব্যবহারের একটি ভালো দিক কিন্তু সব কিছুরই যেমন ভাল দিক রয়েছে তেমনি খারাপ দিকও রয়েছে। তাই ওয়াইফাই ব্যবহারের যেমন সুবিধা আছে তেমনি এর অসুবিধাও রয়েছে। আমরা কি কেও চিন্তা করেছি ওয়াইফাই আমাদের কি কি ক্ষতি করতে পারে। আসুন জেনে নেই এর ক্ষতিকর দিকগুলো।
.
ওয়ারলেস ইন্টারনেট রাউটার অথবা ওয়াইফাই মডেমের সংযোগ থেকে বিচ্ছুরিত হয় ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের। যে তরঙ্গের সাহায্যে খাবার গরম করা হয় সেই একি তরঙ্গ বিকিরিত হয় এসব ওয়ারলেস রাউটারে। এসব তরঙ্গ সাধারণত লো গিগাহার্জে বিকিরিত হয়। মডেমের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কেও যখন ওয়াই ফাই সিগন্যাল সার্চ করেন তখন তরঙ্গ চলাচল করার সময় তার আশেপাশে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে যার থেকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন উৎপন্ন হয়। আর এই ওয়াইফাই সিগন্যাল ত্বক ভেদ করে শরীরের অভ্যন্তরে চলে যায়। এর ফলে স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি দেখা দেয়। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা এক গবেষণায় দেখেন, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ বিকিরণের ফলে মানব শরীরে নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় যেমন- মাথা ব্যথা, চোখের দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যাওয়া, স্বল্প নিদ্রা, হৃদরোগ সহ নানান রোগ দেখা দেয়া। রাউটার ও ওয়াইফাই টাওয়ারে যেহেতু তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়, তাই এসব টাওয়ারের আশেপাশে রেডিয়েশন উৎপন্ন হয়। এই রেডিয়েশন এন্টেনার কাছে বেশী থাকে এবং দূরত্ব বাড়লে রেডিয়েশন দূর্বল হয়ে পড়ে।
.
সমাধানঃ
ইন্টারনেট আমাদের এতটাই জীবনের সাথে মিশে গেছে যে এটি ত্যাগ করে থাকা কষ্টকরই বটে, তবে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়।
.
১) বেশীর ভাগ ওয়াইফাই ও রাউটারের কারনে শরীরে যে ক্ষতি হয় তার মূল কারণ কাজ ছাড়া আমরা ওয়াইফাই ও রাউটার সংযোগ বন্ধ করি না, বিশেষ করে রাতের বেলায়ও এসব সংযোগ চলতে থাকে ফলে এ সময় এসব তরঙ্গ আমাদের জন্য ক্ষতি বয়ে আনে। তাই ঘুমানোর আগে রাউটার অফ করে দিন।
.
২) রাউটার এর অবস্থান আপনার থাকার জায়গার একদম কাছাকাছি না রাখবেন না।
.
৩) গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ওয়াইফাই রাউটার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।
রাউটারের ক্ষতিকারক দিক অনেকেই হয়ত কম বলবে, কিন্তু অল্প রেডিয়েশন প্রতিদিন অনবরত শরীরে প্রবেশ করলে যে ক্ষতি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই অপ্রয়োজনে রাউটার বন্ধ রাখুন, সুস্থ থাকুন।
আজ আর নয়। এই রকম পোষ্ট পেতে সাথে থাকুন।
No comments