আজকে অামরা মোবাইল ফোনের কোন সেন্সর (Sensor) কি কাজ করে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। পূর্বে সেন্সর কাকে বলে, কত ধরণের সেন্সর আছে এবং সেন্সরগুলোর নাম কি এই সম্পর্কে পোষ্ট করা হয়েছে যারা দেখতে চান সেখান থেকে দেখে নিতে পারেন। তো চলুন বিভিন্ন সেন্সরের কাজগুলো দেখে নেয়া যাক।

১. আক্সেলেরোমিটার: এই সেন্সরটি আপনার ফোনকে
আপনি কি ভাবে ধরে রেখেছেন তার সম্পর্কে সফটওয়্যারকে বলে দেয়। যেমন ধরুন আপনার
ফোনের অটো রোটেট অপশনটি যখন চালু করা থাকে
তখন আপনি যখন কোন ফটো দেখেন ফোনটি স্বাভাবিক ভাবে খাঁড়া করে ধরলে ফটোটিও খাঁড়া দেখা যায়, কিন্তু যখন ফোনটিকে ল্যান্ডস্কেপ করে ধরা হয় তখন ফটোটিও ল্যান্ডস্কেপ হয়ে যায়।
২. জাইরোস্কপ: এই সেন্সর এক প্রকারের আক্সেলেরোমিটার সেন্সরই। কিন্তু এটি অনেক উন্নত
আক্সেলেরোমিটার। জাইরোস্কপের সাহায্যে
মোবাইল ফোন সম্পর্কে একদম নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায়, আপনি ঠিক কীভাবে, কি অ্যাঙ্গেলে বা কত ডিগ্রি কোণ আপনার ফোনটিকে ধরে আছেন সেই তথ্য পাওয়া যায়। গুগলের একটি অ্যাপ আছে ফটোসফিয়ার, যার মাধ্যমে ৩৬০ ডিগ্রি ফটো নেওয়া হয়ে থাকে। যখন আপনি এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ৩৬০ ডিগ্রি ফটো ক্যাপচার করেন তখন আপনার ফোন বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে বিভিন্ন ফটো ক্যাপচার করে। এই অবস্থায় জাইরোস্কপের সাহায্যে ক্যামেরা জানতে পারে যে কোন ফটো কত অ্যাঙ্গেলে ক্যাপচার করা হয়েছে। এবং সেই হিসেব অনুসারে আপনার ফোনের সফটওয়্যার সেই ফটো গুলোকে একত্রিত করে একটি পুরো ৩৬০ ডিগ্রী ফটোতে রূপান্তরিত করে।
৩. ম্যাগনেটোমিটার: এই সেন্সরটি মোবাইল ফোনে
কম্পাসের কাজ করে থাকে। আপনার ফোনে যদি
ম্যাগনেটোমিটার না থাকে তবে ম্যাপ বা বিভিন্ন কম্পাস
অ্যাপে দিক নির্দেশনা দেখতে পারবেন না। এই
সেন্সরের সাহায্যে কিছু অ্যাপ মেটাল ডিটেক্টর হিসেবে কাজ করে। যেহেতু এই সেন্সরটি একটি ম্যাগনেট তাই আপনি যদি কোন ধাতব পদার্থ আপনার ফোনের কাছে নিয়ে আসেন তবে এই সেন্সর তা নির্ণয় করতে পারে। এবং এর সাহায্যে বিভিন্ন প্রকারের অ্যাপ গুলো কাজ করে থাকে।
৪. প্রক্সিমিটি: এই সেন্সরটি মোবাইল ফোনের বাইরে থেকেই দেখতে পাওয়া যায়। এটি মোবাইল ফোনের সামনের ক্যামেরা বা উপরের স্পিকারের আশে-পাশে
থাকে। এই সেন্সরটি আপনার ফোনের স্ক্রীন থেকে কোন কিছুর দূরত্ব মাপার কাজ করে থাকে। যেমন যখন আপনি আপনার ফোনটি কানে রেখে কথা বলতে থাকেন তখন আপনার ফোনের স্ক্রীনের লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুটি সুবিধা হয়। এক হলো আপনার ব্যাটারি লাইফ সেভ হয় এবং দ্বিতীয়ত আপনি যখন কানে ফোন লাগিয়ে কলে থাকেন তখন জেনো আপনার চেহারার স্পর্শে কলটি কেটে না যায় বা হোল্ড হয়ে না যায় বা যেকোনো অপশন ক্লিক না হয়ে যায় এর জন্য স্ক্রীনের লাইট বন্ধ হয়ে যায়।
৫. লাইট সেন্সর: এই সেন্সরটি কাজ করে আপনার মোবাইল ফোনের ব্রাইটনেস অটোমেটিক ঠিক করার জন্য। আপনি যখন আপনার ফোনকে হাতে স্বাভাবিক ভাবে ধরে রাখেন তখন লাইট সেন্সর আপনার চারপাশের বিস্তৃত আলোর মাত্রা পরিমাপ করে ফোনের সফটওয়্যারকে তথ্য প্রদান করে। এবং সেই তথ্য অনুসারে ফোনের স্ক্রীনের আলো কম বা বেশি হতে দেখা যায়।
৬. ব্যারোমিটার: এই সেন্সরটি বায়ুমণ্ডলের চাপকে পরিমাপ করার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। এই সেন্সরটির সাহায্যে আপনি জানতে পারবেন যে সমুদ্রতল হতে আপনি কতটা উচ্চতায় রয়েছেন। এই সেন্সরটি প্রধানত দুইটি কাজ করে থাকে। একটি হলো আপনার ফোনে যদি ব্যারোমিটার থাকে তবে এটি জিপিএস কে সাহায্য করে থাকে এবং আপনার লোকেশন একদম সঠিক করে জানাতে পারে।
৭. থার্মোমিটার: এই সেন্সরটি প্রায় সব ফোনেই লাগানো থাকে। এই থার্মোমিটার লাগানো থাকে ফোনের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা মাপার জন্য। যেমন ব্যাটারি বা সিপিইউ এর তাপমাত্রা। তাছাড়া ফোনের বাকী যন্ত্রাংশ গুলোর তাপমাত্রাও পরিমাপ করে থাকে। যাতে কখনো ফোনের কোন অংশের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে তা ঠিক করার জন্য ফোনের পারফর্মেন্স স্লো করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
৮. এয়ার হিউমিডিটি: এই সেন্সরটি স্যামসাং এর কিছু ফোনে দেখতে পাওয়া গিয়েছিলো। এই সেন্সরটি আপনার চারপাশের পরিবেশের অবস্থা নির্ণয় করে আপনাকে জানিয়ে দিতে পারে যে এই আবহাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী কিনা।
৯. প্যাডোমিটার: এই সেন্সরটি প্রায় সব ফোনে থাকে না প্যাডোমিটার আক্সেলেরোমিটারের আরেকটি উন্নত সংস্করণ। এবং এটির মাধ্যমে আপনি নির্ণয় করতে পারবেন যে সারাদিনে আপনি কতটা পায়ে হেঁটেছেন।
এই কাজটি আপনি আক্সেলেরোমিটারের সাহায্যেও
করতে পারবেন, কিন্তু এটি এতটাও সঠিক হবে না। কিন্তু আপনার ফোনে যদি একটি বিশেষ প্যাডোমিটার সেন্সর থাকে তবে একদম সঠিক ভাবে আপনার হাঁটাচলা নির্ণয় করা সম্ভব, আপনাকে কোন তৃতীয়পক্ষের অ্যাপস ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না।
১০. ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর: এই সেন্সরটি আপনাকে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে ফোনকে লক
অথবা আনলক করার সুবিধা দিয়ে থাকে। তাছাড়াও
ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপস পারচেজ করা
ছাড়াও অনলাইন পে করার অপশনও দিয়ে থাকে।
১১. রেডিয়েশন সেন্সর: এই সেন্সরটি আপনার চারপাশের পরিবেশে কতটা ক্ষতিকর রেডিয়েশনের অস্তিত্ব রয়েছে তা পরিমাপ করতে পারে। যেমন মনে করুন আপনার ঘরে অনেক প্রকার রেডিও একটিভ ডিভাইস রয়েছে যেমন আপনার সেলফোন সিগন্যাল, ওয়াইফাই সিগন্যাল, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি। তো এই সেন্সরটি মূলত সেই রেডিয়েশনের মাত্রা পরিমাপ করে এবং আপনাকে জানিয়ে দিতে পারে এটি আপনার জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। যদিও এটি বর্তমানে মাত্র কিছু ফোনেই আছে। তবে,আশা করা যায় আস্তে আস্তে এটার ব্যবহার বাড়বে।
১২. হার্ট রেট সেন্সর: এই সেন্সরটি স্যামসাং এর গালাক্সি এবং নোট সিরিজের কিছু ফোনে দেখা গেছে। এই সেন্সরটির সাহায্যে হার্ট রেট মাপা সম্ভব।
১৩. ব্লাড অক্সিজেন সেন্সর: এই সেন্সরটিও স্যামসাং এর গালাক্সি এবং নোট সিরিজের কিছু ফোনে দেখা গেছে। এই সেন্সরটির সাহায্যে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব।
No comments