এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড
সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন।আর আপনাদের দোয়ায় আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আজকে কি নিয়ে আলোচনা করব উপরের টাইটেল দেখেই বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই। মোবাইল ফোনের এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড এর যাবতীয় বিষয় নিয়ে অাজকের এই পোষ্ট। অামাদের সবার ফোনেই এই অপশনটা আছে। কিন্তু অামরা অনেকই এর ব্যবহার জানি আবার অনেকেই জানি না। অাশা করি যারা জানেন না তারা আজকে এই পোস্টের মাধ্যমে কিছুটা হলেও জানতে ও বুঝতে পারবেন।

আমরা যারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি তারা সবাই ফোনে ফ্লাইট মোড বা এ্যারোপ্লেন মোড নামের অপশন দেখেছি। নোকিয়া ১১০০ থেকে বর্তমানের গ্যালাক্সি এস
৭, আইফোন ১০ যাই বলেন না কেন সকল ফোনেই এই ফ্লাইট মোড অপশনটি রয়েছে। শুধু ফোন বা স্মার্টফোনেই নয় ল্যাপটপেও এ্যারোপ্লেন মোড অপশন রয়েছে। কিন্তু আপনি যানেন কি এই ফ্লাইট মোড বা এ্যারোপ্লেন মোড
কি? কেন এটি সকল ফোনে থাকে? যদি না জেনে থাকেন তাহলে আপনি সঠিক জায়গাতে এসেছেন। লিখাটি পড়তে থাকুন বিস্তারিত জানতে পারবেন।
প্রথমেই অাসি এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড কি? এ্যারোপ্লেন মোড এমন এক মোড যা ডিভাইস বন্ধ না করে শুধু মাত্র ডিভাইসের সকল ওয়্যারলেস ট্রান্সমিশন বন্ধ করে দেয়। আপনি মোবাইল ফোন বলেন আর ল্যাপটপ
বলেন সকল ডিভাইসে ফ্লাইট মোড একই কাজ করে। এই মোডটি ওয়্যারলেস কানেকশনে ব্যবহৃত হয় এমন সকল হার্ডওয়্যার বন্ধ করে দেয়। যে সকল হার্ডওয়্যার বন্ধ করে দেয় সেগুলো হল,
সেলুলারঃ এই হার্ডওয়্যারটি ডিভাইস এর সাথে সেলফোন
টাওয়ারের এর যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়। এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড অন করা হলে এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড এই হার্ডওয়্যারটি বন্ধ করে দেয় ফলে ডিভাইসটি সেলফোন টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে ফোন থেকে কোন কল এবং এসএমএস আদান প্রদান করা যায় না।
ওয়াইফাইঃ এই হার্ডওয়্যারটি ডিভাইস এর অাসে পাশের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক খুজার কাজ করে। এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড অন করা হলে এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড এই হার্ডওয়্যারটিও বন্ধ করে দেয় ফলে ডিভাইসটি আসে পাশের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক খুজা বন্ধ করে দিবে।
এমনকি আপনি যদি কোন ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কানেক্ট থাকেন তাহলে সেটিও ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে।
তবে বর্তমানে প্রায় সকল স্মার্টফোনেই এ্যারোপ্লেন মোড ডিজেবল না করেই ওয়াইফাই বন্ধ হওয়ার পরেও তা পুনরায় চালু করা যায়।
ব্লুটুথঃ এই হার্ডওয়্যারটি অন্য কোন ডিভাইসে সাথে
আপনার ডিভাইসের ফাইল শেয়ার করতে কাজ করে। এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড অন করা হলে এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড এই হার্ডওয়্যারটিও বন্ধ করে দেয় যার ফলে আপনি অন্য কোন ডিভাইসে সাথে।আপনার ডিভাইসের ফাইল শেয়ার করতে পারবেন না।
তবে বর্তমানে প্রায় সকল স্মার্টফোনেই এ্যারোপ্লেন মোড ডিজেবল না করেই ব্লুটুথ বন্ধ হওয়ার পরেও তা পুনরায় চালু করা যায়।
জিপিএসঃ এই হার্ডওয়্যারটি লোকেশন ট্র্যাক করতে কাজ করে। এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড অন করা হলে এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড এই হার্ডওয়্যারটিও বন্ধ করে দেয় যার ফলে আপনি আপনার লোকেশন ট্র্যাক
করতে বা জিপিএস ব্যবহার করতে পারবেন না।
কিভাবে বুঝবেন এ্যারোপ্লেন মোড অন আছে কিনা?
যখন আপনি আপনার ডিভাইসে এ্যারোপ্লেন মোড অন করবেন তখন আপনার ফোনের টপ বারে একটি এ্যারোপ্লেন / বিমানের চিহ্ন দেখতে পাবেন যার দ্বারা নিশ্চিত হতে পারবেন যে ফ্লাইট মোড অন হয়েছে।
এ্যারোপ্লেন মোড কেন গুরুত্বপূর্ন?
এ্যারোপ্লেন মোড মূলত বিমান যাত্রার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কারন আমাদের টেকনোলোজি অনেক উন্নত হলেও এখনো এর অনেক বাধা ধরা আছে যার উদাহরণ স্বরুপ এই বিমান যাত্রার কথাই বলা যায়। আমাদের ফোন সবসময় সেলুলার টাওয়ার খুজে বেড়ায় এবং বিভিন্ন
টাওয়ারের সাথে কমিউনিকেট করার চেষ্টা করে। কিন্তু যখন আপনি বিমানে যাত্রা করবেন তা ভূমি থেকে অনেক
উচুতে থাকবে এবং তখন আপনার ফোন / ট্যাবলেট নেটওয়ার্ক খুজে না পাওয়ার ফলে সিগন্যাল বুস্ট করতে
থাকবে এবং কোন টাওয়ারের সাথে কানেক্ট হওয়ার চেষ্টা করবে অপর দিকে বিমানও সর্বদা ওয়্যারলেস
কমিউনিকেশন করতে থাকে। ভূমিতে থাকা ফ্লাইট কন্ট্রলার বিমানে নির্দেশনা পাঠায় যেন প্লেনটি কোন রকম দুর্ঘটনায় না পরে এবং সঠিক ভাবে গন্তব্যে পৌছাতে পারে। কিন্তু
যখন আপনার ফোন নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য সিগন্যাল পাঠাবে তখন সেটি বিমানের নেটওয়ার্ক কমিউনিকেশনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে যার ফলে বিমান দুর্ঘটনায় পরতে পারে।
এছাড়াও বিমানে অনেক সেন্সর থাকে যেগুলো ওয়্যারলেস ট্রান্সমিশনের ফলে সমস্যায় পরতে পারে, যার ফলে ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস বন্ধ হয়ে যায়। এ কারনেই হয়ত এই মোডটির নাম এ্যারোপ্লেন মোড বা ফ্লাইট মোড দেয়া হয়েছে। বর্তমানে টেকনোলোজি খুব দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে যার ফলে বর্তমানে অনেক বিমানে
ওয়াইফাই, ব্লুটুথ অন রাখলেও কোন সমস্যা হয়না, সেকারনেই বর্তমানে বেশিরভাগ ডিভাইসে ফ্লাইট মোড অন
থাকার পরেও ওয়াইফাই , ব্লুটুথ মেনুয়ালি অন করা যায়। আশা করা যায় খুব শিগ্রই বিমানে সেলুলার নেটওয়ার্কও ব্যবহার করা যাবে।
এবার আসা যাক কেন বা অন্য কি কাজে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
আপনি যদি বিমানে যাত্রা নাও করেন তাও আপনি এই মোডের মাধ্যমে ফোনের ব্যাটারি পাওয়ার সেভিং করতে পারবেন। যেহেতু সেলুলার নেটওয়ার্ক, ওয়াইফাই, জিপিএস অনেক ব্যাটারি ব্যবহার করে সেহেতু এ্যারোপ্লেন মোড অন করে ব্যাটারি স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করতে পারেন।
মোবাইল চার্জ করার সময় এ্যারোপ্লেন মোড অন করে রাখলে মোবাইল দ্রুত চার্জ হয় কারন তখন মোবাইলের নেটওয়ার্কিং সিস্টেম বন্ধ থাকে।
শেষ কথাঃ এ্যারোপ্লেন মোড বলেন আর ফ্লাইট মোডই বলেন দুটি একই কথা। কোন ডিভাইসে এ্যারোপ্লেন মোড
লিখা থাকে আবার কোন ডিভাইসে ফ্লাইট মোড লিখা থাকে। তবে নাম যেটি হোক এই মোড অপ্রয়োজনীয়
কোন কারনে দেয়া হয়নি, আশা করি সবাই এর গুরুত্ব ও ব্যবহার সম্পর্কে বুঝতে পারেছেন।
অনেকে এটি অপ্রয়োজনীয় মনে করে বিমান যাত্রায় অন করেন না, আবার অনেকেই অন করতে ভুলে জান। আপনার এই সামান্য ভুলের কারনে অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে এবং আপনার ভুলের মাশুল স্বরুপ শেষ হয়ে যেতে পারে অনেক মুল্যবান জীবন। সুতরাং সবার উচিৎ এই মোডটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
No comments