Computer

Computer এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে পোষ্ট করা হবে বিধায় আজকে কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা দিতে এই পোষ্ট করা। 

কম্পিউটার শব্দটি গ্রীক compute শব্দ থেকে এসেছে।
compute শব্দের অর্থ হচ্ছে গণনা করা। 
মূলত কম্পিউটার শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র। 
(আবার ল্যাটিন শব্দ Computare থেকে Computer শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলেও মনে করে হয়)
পূর্বে কম্পিউটার দিয়ে শুধুমাত্র হিসাব-নিকাশের কাজ করা হত। কিন্ত বর্তমান যুগে কম্পিউটারের বহুমুখী ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারের সংজ্ঞা অনেক ব্যাপকতা লাভ করেছে। তাই কোন সীমিত সংজ্ঞা দিয়ে কম্পিউটারকে অার সীমাবদ্ধ  করে রাখা যায় না।
তবুও Computer এর সংজ্ঞা আমরা এভাবে দিতে পারি:-
"কম্পিউটার একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র যাতে ডেটা বা নির্দেশ ইনপুট নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, ইনপুট হিসেবে প্রাপ্ত ডেটাকে প্রসেস করার ব্যবস্থা থাকে, প্রসেস করার পর প্রাপ্ত ফলাফল প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকে।"
কম্পিউটারের কতগুলো বৈশিষ্ট:-
১. নির্ভুল ফলাফল প্রদান,
২. দ্রুতগতি, 
৩. ডাটা সংরক্ষন,
৪. স্বয়ংক্রিয় কর্মক্ষমতা,
৫. সহনশীলতা, 
৬. স্মৃতি বা মেমরী ইত্যাদি।

কম্পউটারের ব্যবহার:- 
ঘর থেকে শুরু করে অফিস প্রায় সকল ক্ষেত্রেই কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

কম্পিউটারের ইতিহাস:-
স্কটল্যান্ডের গণিতবিদ জন নেপিয়ার (১৫৫০- ১৬১৭)
হিসাব-নিকাশের জন্য হাতীর দাতের ছোট ছোট অংশ দিয়ে একটি যন্ত্র তৈরি করেছিলেন যাকে নেপিয়ারের অস্থি বলা হত। নেপিয়ারের অস্থি ছিল এনালগ বা তুলনাভিত্তিক গণনা গন্ত্র।
পরবর্তীতে ফরাসী বিজ্ঞানী রেইজ প্যাচক্যাল (১৬২৩-১৬৬২) প্রথম গণনার যন্ত্র চাকার সাহায্যে তৈরিতে সক্ষম হন। যেতেতু চাকা দুই দিকেই ঘুরানো যেত তাই যোগ বিয়োগ করার কোন অসুবিধা হত না। 
পরবর্তী ৩০ বছর পর বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ লিবনিজ (Leibniz- 1646-1716) আরেকটি গণক যন্ত্র তৈরি করেন যার সাহায্যে গুন ভাগ করা যেত। তিন শতাব্দী পূর্বে বর্তমানের সমতুল্য চার ফাংশন বিশিষ্ট ক্যালকুলেটরটিও তিনিই নির্মাণ করেন।
আধুনিক কম্পিউটারের জনক হিসাবে পরিচিত বৃটিশ নাগরিক চার্লস ব্যাবেজের (১৭৯২-১৮৭১) নাম স্মরন করা হয়ে থাকে। তিনি ১৮২২ সালে সরকারের অনুদানে ডিফারেন্স ইঞ্জিন বা বিয়োগ ভিত্তিক গণনা যন্ত্র তৈরি করেন। ১৮৩৩ সালে আধুনিক কম্পিউটারের মৌলিক রূপরেখা তৈরী করে বৃটিশ গণিত বিশারদ চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)। চার্লস ব্যাবেজের ধারণার প্রতিফলন ঘটিয়ে ১৯৪৪ সালে হাওয়ার্ড একিনের নেতৃত্বে মার্ক-১ (Mark-1) নামের ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার আবিষ্কার হয়। এই Computer টি তৈরিতে কাজ করেছিলেন হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বিখ্যাত আইবিএম কোম্পনির একদল বিজ্ঞানী। মাইক্রো প্রসেসর আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় বিপ্লব ঘটে। ১৯৭১ সালে আমেরিকার ইন্টেল (intel) কোম্পানী সর্বপ্রথম মাইক্রো প্রসেসর (micro processor) তৈরী করে। মাইক্রো প্রসেসর এক বর্গ ইঞ্চি মাপের অল্প আয়তন বিশিষ্ট সিলিকন পাতে হাজার হাজার ট্রানজিষ্টর সন্নিবেশিত একটি যন্ত্রাংশ। মাইক্রো প্রসেসর দিয়ে তৈরী কম্পিউটারই আধুনিক মাইক্রো কম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটার।
কম্পিউটারের শ্রেণী বিভাগ:-
আকৃতিগত দিক থেকে কম্পিউটারকে চার ভাগে ভাগ
করা হয়েছে। যথা:
ক. সুপার কম্পিউটার (super computer), 
খ. মেইনফ্রেম কম্পিউটার (mainframe computer), 
গ. মিনি কম্পিউটার (mini computer), 
ঘ. মাইক্রো কম্পিউটার (micro computer)।

ক. সুপার কম্পিউটার (super computer) : আকৃতিগত দিক থেকে সর্ববৃহত এই কম্পিউটারটিতে তথ্য সংরক্ষণ-তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুত গতিসম্পন্ন। এই কম্পিউটার সাধারণত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন: cray-1, cray x-mp, cyber-205.

খ. মেইনফ্রেম কম্পিউটার (mainframe computer) : সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট তবুও অন্যান্য কম্পিউটারের চেয়ে বড় এ ধরণের কম্পিউটার একই সাথে অনেকগুলো গ্রহণ মুখ ও নির্গমন মুখ, সরঞ্জাম ও বিভিন্ন রকম সহায়ক স্মৃতির সাথে সংযোগ রক্ষা করে কাজ করে থাকে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানসমূহ এ ধরণের কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে।
যেমন: univac1100/01, ibm 6120, ibm 4341, ncr n8370, data general cs30.

গ. মিনি কম্পিউটার (mini computer) : 
সবচেয়ে জনপ্রিয় এটি কম্পিউটারটি আকৃতিগত ছোট ও দামে সস্তা। অফিসিয়াল কাজ, খেলাধুলা ও এন্টারটেইনমেন্ট কাজে বহুল ব্যবহৃত। এ কম্পিউটারকে পিসি (personal computer) বলে। যেমন: ibm p.c, trs 80, apple 64.

ঘ. মাইক্রো কম্পিউটার (micro computer) :
মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটারকে তিনটি
ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: 
১. সুপার মাইক্রো (super micro)
২. ডেস্কটপ (desktop)
৩. ল্যাপটপ (laptop)

১. সুপার মাইক্রো (super micro) : 
সুপার মাইক্রো কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী মাইক্রো কম্পিউটার। এর অন্য নাম ওয়ার্ক ষ্টেশন। এই
কম্পিউটারের ক্ষমতা যে কোন মিনি কম্পিউটারের কাছাকাছি হওয়ায় এগুলো মিনিফ্রেমের স্থান দখল করে নিচ্ছে।
২. ডেস্কটপ (desktop) :
এটি সহজে ব্যবহার ও ডেস্কে স্থাপন করা যায়। যেমন: আইবিএম পিসি, এ্যাপল মেকিনটোশ।
৩. ল্যাপটপ (laptop) :
ডেক্সটপ থেকে ছোট কম্পিউটারগুলো সহজে বহন ও
ব্যবহার করা যায়। ল্যাপটপ দুইশ্রেণীতে বিভক্ত। যেমন-
নোট বুক (note book) ও পিডিএ (pda)।
নোট বুক (note book) : ছোট ডায়রী ও নোটবুক আকৃতির ল্যাপটপ। এগুলোকেও পাওয়ার বুক বলা হয়। 

পিডিএ (pda) : সাবনোট বুক পিডিএ (personal digital assistance) এক ধরণের ল্যাপটপ। 

আকৃতিগত দিক ছাড়াও গঠনগত দিক থেকে কম্পিউটারকে আরও তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
যেমন-
১. ডিজিটাল কম্পিউটার (digital computer), 
২. অ্যানালগ কম্পিউটার (analog computer), 
৩. হাইব্রিড কম্পিউটার (hybrid computer)।

১. ডিজিটাল কম্পিউটার (digital computer) : 
এ ধরণের কম্পিউটার বর্ণ/অংক সংকেতের মাধ্যমে তথ্যগ্রহণ করে থাকে এবং ফলাফল প্রকাশ করে। এ
কম্পিউটার নির্ভুলভাবে গাণিতিক ও যুক্তিগত কাজ করে সূক্ষ্মভাবে। 1 ও 0 বাইনারী সংখ্যার উপর নির্ভর করে উপাত্ত সংগ্রহ করে।
২. অ্যানালগ কম্পিউটার (analog computer) : 
এ কম্পিউটারে বর্ণ ও অংক সংকেতের পরিবর্তে এনালগ বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করে। রোদ, তাপ, উত্তাপ, চাপ জন্য সৃষ্ট বৈদ্যুতিক তরঙ্গকে অ্যানালগ কম্পিউটার ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে এবং ফলাফল সাধারণ প্লটার দিয়ে অংকন করে। রাসায়নিক, পেট্রোলিয়াম ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে অ্যানালগ কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
৩. হাইব্রিড কম্পিউটার (hybrid computer) : 
ডিজিটাল ও অ্যানালগ এ দুই ধরণের কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত কম্পিউটারকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে। বৈজ্ঞানিক সমাধানের জন্য হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

No comments

Powered by Blogger.