এখানে আমরা আলোচনা করবো অ্যান্ড্রয়েড রুট কি? এর সুবিধা ও অসুবিধা কি কি? কেন আপনি রুট করা ফোন ব্যবহার করবেন আর কেনই বা করবেন না। এই সম্পর্কিত আলোচনা থাকবে এখানে। প্রথমেই আসা যাক,

অ্যান্ড্রয়েড রুট কি?
অ্যান্ড্রয়েড রুট একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গ্রাহক সম্পূর্ণ ভাবে তার ফোনটি কন্ট্রোল করতে পাড়বে। আপনি ডিভাইসটি নিজের ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারবেন। রুট করার মানে হচ্ছে স্পেশাল সুবিধাসমূহ গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত করা। এটি ফোনের সকল প্রোগ্রামকে কন্ট্রোল করারর সুবিধা প্রদান করে।
জেলব্রেক থেকে রুটিং এর ভিন্নতাঃ
অনেকেই রুটিং এবং জেলব্রেক একই ব্যাপার ভেবে প্রতারিত হন । কিন্তু সত্যিকার অর্থে জেলব্রেক এবং রুটিং
দুইটি ভিন্ন ব্যাপার। দুইটির কনসেপ্ট দুই ধরনের। জেলব্রেক আসলে অ্যাপেল এর জন্য প্রযোজ্য। এই মডেলের মধ্যে জেলব্রেক অপারেটিং সিস্টেম মডিফাইং করতে পারে (ইনফরসড বাই “লকড বুটলোডার”)। এটি গ্রাহককে অ-অনুমোদিত এপ্লিকেশনসমূহ ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে থাকে। এই সুবিধাসমূহ কিছু কিছু মডেলের অ্যান্ড্রয়েডের মধ্যে থাকে । যেমনঃ সনি, আসুস এবং গুগল এই টাইপ এর মডেলের অ্যান্ড্রয়েডের মধ্যে এই সুবিধাটি রয়েছে। এদের আর একটি বিশেষ গুন হচ্ছে এই মডেলের অ্যান্ড্রয়েডগুলো তাদের ডিভাইসগুলো আনলক করতে পারে এমনকি স্থানান্তরিত করতে পারে।
রুট করার পর কি করবেন?
রুট করার মাধ্যমে একজন তার ফোনের সকল একসেস পেয়ে যায় তাই রুট করার পর আপনি আপনার ফোনে আপনার পছন্দের মোড’স, কার্নেল, কাস্টম রম ইত্যাদি ইন্সটল করতে পারবেন। আপনি চাইলে অ্যান্ড্রয়েড এর লেটেস্ট ভার্সনও ইন্সটল করতে পারবেন যেমন ললিপপে ললিপপ আপডেট (যেমন অ্যান্ড্রয়েড এর ৬.০.১ মার্শম্যালো) ইন্সটল করতে পারবেন।
কিন্তু রুট করায় যে কাজটি করনীয় তা অনেকেই করে না যার ফলে দেখা যায় যে পরবর্তীতে কোন সমস্যা হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই কাজটি হল আপনার ফোনের কারেন্ট রমের একটি ব্যাকআপ তৈরি করা। ব্যাকআপ নেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে যেকোন একটি কাস্টম রিকভারি ইন্সটল করা। সংক্ষেপে রিকভারি হচ্ছে ফোনের একটা বুট-মোড যেখান থেকে আপনি ফোনের পুরো পার্টিশন ফরম্যাট করতে পারবেন অথবা মেমোরি কার্ডে থাকা update.zip ফাইল দিয়ে ফোন আপডেট করতে পারবেন।
রুট করার সুবিধা সমূহঃ
১। লুকানো বৈশিষ্ট্য এবং ইন্সটল ইঙ্কম্পেটিবলঃ আপনি ইচ্ছে করলে আপনার ফোনের লক অ্যাপসগুলো আনলক করতে পারবেন।
২। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস এর মাধ্যমে ওয়াই-ফাই হ্যাক করাঃ আপনি চাইলেই আপনার অ্যান্ড্রয়েডটি দিয়ে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের ডিভাইসটি হ্যাক করতে পারবেন। এমন কি আপনি চাইলে ওই নেটওয়ার্কের কানেক্ট থাকা যেকোনো ইউজারকে নেটওয়ার্কের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবেন। কিন্তু এর জন্য অ্যান্ড্রয়েডটি রুট করা থাকতে হবে ও প্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল থাকতে হবে।
৩। আপনার মোবাইলের প্রসেসর অভারলক করাঃ আপনি আপনার মোবাইলের প্রসেসর এর গতি বাড়াতে পারবেন। কিন্তু এটি প্রসেসর এর জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এর আগে যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে রাখা উচিৎ ।
৪। ব্লক এডস ফ্রম অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপসঃ আমাদের অনেকের ফোনেই অনেক অবাঞ্চিত এডস আসতে থাকে। যা কিছু কিছু গ্রাহকের কাছে খুবই বিরক্তির কারন হয়ে দাড়ায়। এ সমস্ত বিরক্তি থেকে রুট অ্যাপ্লিকেশনটি আপনাকে দেবে মুক্তি । আপনি রুট করে এডস ব্লক দিয়ে রাখলে আপনি পাবেন এই অবাঞ্চিত ঝামেলা থেকে মুক্তি। এই ব্যাপারে রুট এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত ব্যাপক ।
৫। আপনার ডিভাইস এর র্যাম বৃদ্ধিঃ রুট আপনার ডিভাইসটির ডাটার ঘনত্ব বিপর্যয় কমিয়ে এর জায়গা বৃদ্ধি করে। রুট এর ফলে আপনি এই সুবিধাটি পাবেন আপনার অ্যান্ড্রয়েডটিতে।
৬। বিভিন্ন ধরনের রম’স, মুড’স, কার্নেলঃ আপনি ইচ্ছে করলে বিভিন্ন ধরনের রম’স, কার্নেল এবং মুড’স ইন্সটল করতে পারবেন।
৭। ব্যাটারির বুস্ট লাইফের জন্য আন্ডারলক সিপিইউঃ আপনি আপনার ফোনটির ব্যাটারি আরও বেশি টেকসই করার জন্য আপনি আপনার সিপিইউটিকে আন্ডারলক করে রাখতে পারবেন।
রুট করার অসুবিধা সমূহঃ
১। ব্রিকিংঃ রুট হল একটি ড্রেডেড শব্দ। আপনি যদি এটি কোন ব্যাবসায়িক কাজে ব্যবহার করেন তবে এটি দিয়ে আপনি লাভবান হবেন না। এমন কি যদি এটি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হয় তবে এর জন্য আপনাকে জরিমানা দিতে হতে পারে। তাই কোন বড় কাজে বা ব্যাবসায়িক কাজে এর সুফল তেমন নেই ।
২। ওয়ারেন্টি লসঃ এটি ব্যবহার এর সাথে সাথে আপনার ফোনের ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যাবে কারন এর পর আপনি আর কর্তৃপক্ষকে এই টা দেখাতে পারবেন না । আপনি এই রুট বন্ধ করেও যদি ফোনটিকে ওয়ারেন্টিতে পাঠান তাতেও কোন লাভ হবে না। কারন, রুট একবার ইন্সটল করা হলে এর পরে আর এর ডিভাইস আগের মত থাকে না। তাই এর ব্যবহারের সাথে সাথে আপনার ওয়ারেন্টির কথা ভুলে যেতে হবে।
৩। সিকিউরিটি রিস্কঃ রুট ব্যবহারের ফলে আপনার ফোনটি সিকিউরিটি রিস্কে পরে যাবে। কারন রুট
ইন্সটলের সাথে সাথে আপনার ডিফল্ট সেটিংস চেঞ্জ হয়ে যাবে। তাই এর সিকিউরিটি আগের মত থাকবে না। যার ফলে আপনার ফোনটি একটি সিকিউরিটিহীন অবস্থায় পরবে।
আপনার ফোন তার সর্বোচ্চ সার্ভিস দেয়ার জন্য প্রস্তুত! কিন্তু এজন্য আপনার বেশ কিছু এপস প্রয়োজন হবে। যেসব দূর্দান্ত এপস রুট করার আগে আপনি ব্যবহার করতে পারতেন না এখন সেসব এপস ব্যবহার করে আপনি স্মার্টফোনের আসল মজা খুজে পাবেন। রুট করার পর যে ১২ টি এপস না হলেই নয় সেগুলো হল-
রুট করার পর রুটের সুবিধা পেতে যেসব এপস আপনার দরকার হবে সেগুলোর লিস্ট:
১। greenify
২। adaway
৩। titanium backup
৪। link2sd
৫। root browser
৬। droidwall
৭। busybox
৮। system file uninstaller
৯। rom manazer/mobileuncletools
১০। boot animation changer
১১। fonter
১২। lucky patcher ইত্যাদি।
আমাদের উচিত মোবাইল রুট করলে কি হয় এর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা তৈরি করা। কারন, তা না হলে অজ্ঞতার কারনে অনেক বড় বড় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যা কি না আপনি ধারনাও করতে পারবেন না। তবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এর সুবিধাও ব্যাপক। যা অন্য কোন অ্যাপ আপনাকে দিতে পারবে না। অনেক সময় আমাদের ছোট ছোট কিছু ভুলে ঘটে যায় বড় বড় দুর্ঘটনা। আবার অনেক সময় না জানার কারনে অনেক আপডেট অ্যাপ সম্পর্কে ধারনা না পেয়ে আমরা পরে থাকি এনালগ জগতে। তাই মোবাইল রুট করার পদ্ধতি এর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা থাকাও অত্যন্ত জরুরি। এখানে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই আলোচনাটি শেয়ার করুন। ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য।
App permissions Settings
ReplyDelete