OTG কি? ওটিজি এর ব্যবহার ও সুবিধা কি কি?

আমাদের অনেকের ফোনই OTG সাপোর্টেট কিন্তু অনেকেই জানেন না যে OTG কি এবং এটি দিয়ে আপনি কি করতে পারবেন । আবার অনেকে দুই একটি ব্যবহার জানলেও হয়তো সবগুলো জানেন না। তাদের জন্য আজকের এই পোষ্ট। 

প্রথমেই আসা যাক OTG কি? OTG এর পূর্ণরূপ হচ্ছে On The Go. ওটিজি মূলত একটি কেবল যার সাহায্যে USB ডিভাইস মোবাইল এর সাথে যুক্ত করা যায়। আর যে সকল মোবাইলে এই কাজ করা যায় তাদেরকে ওটিজি সাপোর্ট মোবাইল বলা হয়। বর্তমান প্রায় সকল আপডেট ভার্সনের স্মার্ট মোবাইল ফোনগুলোতে ওটিজি সাপোর্ট করে। এর সুবিধা প্রচুর কেননা ইউএসবি বেসড মোটামুটি প্রায় সব কাজই করা যায় ওটিজি দিয়ে।
তাহলে চলুন দেরী না করে জেনে নিই OTG এর কিছু ব্যবহারঃ ১. Keyboard সংযোগ : যে কোনো ব্র্যান্ড বা সাইজ এর ইউএসবি কীবোর্ড আপনার এন্ড্রয়েড এর সাথে সংযুক্ত করে টাংপিং এর কাজ করতে পারবেন। ২. Computer Mouse সংযোগ : যে কোনো ধরনের ইউএসবি মাউস ওটিজির মাধ্যমে আপনার এন্ড্রয়েড এর সাথে সংযুক্ত করে পিসির মতো এন্ড্রয়েডেও মাউস দিয়ে সব কাজ করতে পারবেন। ৩. Sound Card সংযোগ : আপনার এন্ড্রয়েড এর সাথে ওটিজি কেবল দিয়ে একটি ইউএসবি সাউন্ড কার্ড সংযুক্ত করে যেকোনো ধরনের সাউন্ড ডিভাইসে গান শুনতে পারবেন। ৪. USB Fan সংযোগ : অতিরিক্ত গরমে আপনার এন্ড্রয়েড এর সাথে একটি ইউএসবি ফ্যান সংযুক্ত করে নিজে যেমন ঠান্ডা হতে পারবেন তেমনি আবার স্মার্টফোনের ব্যাটারী গরম হয়ে গেলে তাকেও ঠান্ডা করতে পারবেন। খুবই কার্যকর বাংলাদেশের জন্য। আর ইউএসবি ফ্যান এর দাম পড়বে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা আর ফ্যান ১ ঘন্টা চালালে আপনার এন্ড্রয়েড এর চার্জ যাবে কমবেশি অর্ধেক যদি ফুলচার্জ থাকে। ৫. USB Light সংযোগ : বেশীক্ষন আপনার এন্ড্রয়েড এর ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে রাখলে ফোন তো গরম হবেই আবার ফ্ল্যাশলাইটও নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে। এর সমাধান হলো বেশীক্ষন আলো প্রয়োজন হলে ওটিজির মাধ্যমে একটি ইউএসবি ফ্ল্যাশলাইট সংযোগ। যা ফোনের ফ্ল্যাশ এর চেয়ে তিনগুন আলো বেশি দিবে একই চার্জে। ৬. Card Reader সংযোগ : ওটিজি কেবলের সাথে কার্ড রিডার সংযুক্ত করে আপনার এন্ড্রয়েড থেকেই কাট, কপি, পেস্ট, ডিলিট সহ যাবতীয় সব কাজই করতে পারবেন। ৭. Hard Disk সংযোগ : হোক না ৫০০ জিবি বা ১ টেরা বা ২ টেরা; ওটিজি কেবল দিয়ে হার্ডডিস্কে সংযোগ দেন এন্ড্রয়েড এর সাথে আর যা খুশি করেন। ৮. Game Controller সংযোগ : এন্ড্রয়েড এর যেসব গেম; গেম কন্ট্রোলার সাপোর্ট করে আপনি সহজেই ওটিজির মাধ্যমে গেম কন্ট্রোলার সংযুক্ত করে সেসব গেম, গেম কন্ট্রোলার দিয়ে খেলতে পারবেন। ৯. DSLR সংযোগ : কি বিশ্বাস হচ্ছে না? বিশ্বাস না হলেও সত্যি। এরজন্য প্লে স্টোর থেকে dslr dashboard এপ টি ডাউনলোড করুন, ওটিজি দিয়ে এন্ড্রয়েড এর সাথে ডি এস এল আর কানেক্ট করুন। এখন এন্ড্রয়েড থেকেই এপ এর সাহায্যে সম্পূর্ণ ডি এস এল আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। ১০. ল্যান সংযোগ : ওয়াই ফাই নেই কিন্তু ব্রডব্যান্ড সংযোগ আছে। কি করবেন? আপনার এন্ড্রয়েড এর সাথে ওটিজি কেবল দিয়ে ইউএসবি ল্যান (LAN) এর সংযোগ দিন এয়ারপ্লেন মোড অন করে যতখুশি নেট চালান। ১১. ইন্টারনেট মডেম সংযোগ : সিমের ডাটা প্ল্যান শেষ; চিন্তা নেই এন্ড্রয়েড এর সাথে ওটিজি দিয়ে মডেম সংযুক্ত করেন, প্লে স্টোর থেকে পিপিপি উইজার্ট বা সমমানের এপ ডাউনলোড করুন, সেট আপ করুন; ধুমসে ইন্টারনেট চালান। ১২. অন্য ফোনে চার্জ দেয়া : এন্ড্রয়েড এর একটি বড় সমস্যা হল তাড়াতাড়ি চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া। যেমন আপনি দূরে কোথাও বা এমন জায়গায় গেলেন যেখানে ফোন অন রাখা জরুরি কিন্তু হঠাৎ ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেল এখন কি করবেন। এক্ষেত্রেও ওটিজি হতে পারে আপনার সমস্যার সমাধান। আপনার ফোনের ওটিজি কেবল এর সাথে বন্ধু বা পরিচিত বা আপনার নিজেরই আরেকটি ফোনের সাথে নরমাল ইউএসবি কেবলের মাধ্যমে সংযোগ দিন। দেখবেন আপনার ফোনটি চার্জ হবে। উপরোক্ত সবগুলো কাজের জন্য আপনার ফোনে ওটিজি ফাংশন থাকতে হবে এবং একটি ওটিজি কেবল থাকতে হবে যা ফোন বা ট্যাব কেনার সময় কোম্পানী দিয়ে থাকে। আর যদি আপনি ওটিজি কেবল না পেয়ে থাকেন; চিন্তা নেই বাজারে ১০০ টাকার মধ্য ভাল ভাল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওটিজি কেবল পাওয়া যায়। যে কোনো একটা কিনে নিবেন। আজ আর নয়। আশা করি পোষ্টটি আপনাদের কাজে আসবে।

1 comment:

  1. ধন্যবাদ যদি কাজ টা করে

    ReplyDelete

Powered by Blogger.